Shimultolir Jongolbari
বুড়িটা এবার অনতুর মসৃণ গালে হাত বুলাতে বুলাতে বলল, ‘বড্ড ভালো। এখানে কেন এসেছ? জান না এটা খুব খারাপ জায়গা? এখানে জটালী বুড়ি নামে একটা রাক্ষুসী থাকে। মানুষের গোশ্ত দিয়ে কাবাব বানিয়ে খায় সেই রাক্ষুসী। জান না?’বুড়ি একটু হেসে বলল, ‘এসেছ ভালই করেছ। নয়তো আমাকে ছাড়িয়ে দিত কে? উহ্! গা-টা এখনো ব্যথা করছে! ডাকাতগুলো এত পাজি! একটুও দয়া মায়া নেই। একজন বুড়ো মানুষকে এভাবে কেউ বাঁধতে পারে? কী রকম অমানবিক দেখেছ?’ডাকাতের কথা শুনে অনতু একটু ভড়কে গেল। বুড়ি সেটা বুঝতে পেরে বলল, ‘ভয় নেই। ওরা এখনি এখানে আসবে না। সেই ফুলপুর গাঁয়ে ওরা ডাকাতি করতে গেছে। ফিরতে ফিরতে ভোর হয়ে যাবে। ফুলপুর তো এখান থেকে প্রায় দু’ক্রোশ পথ।’অনতু এবার একটু সাহস করে বলল, ‘আপনি কে? এখানে এলেন কী করে?’বুড়ি উঠে দাঁড়াতে যাচ্ছিল। অনতুর কথা শুনে অবাক চোখে তাকাল বোধ হয় ওর দিকে। ‘ওমা! এখনো বুঝতে পারছ না আমি কে? আরে আমিই তো সেই জটালী বুড়ি। তোমরা যাকে ডাইনি, না রাক্ষুসী বল।’..
- Reward Points: 10
- Brand: PORIBAR PUBLICATIONS
- Product Code: 9274957
- Availability: In Stock
- Author Name: Masudul Hasan Shawon ,
- ISBN: 9789849274957
- Total Pages: 64
- Edition: 2nd
- Book Language: Bangla
- Available Book Formats:Hard Cover
- Year: 2020
বুড়িটা এবার অনতুর মসৃণ গালে হাত বুলাতে বুলাতে বলল, ‘বড্ড ভালো। এখানে কেন এসেছ? জান না এটা খুব খারাপ জায়গা? এখানে জটালী বুড়ি নামে একটা রাক্ষুসী থাকে। মানুষের গোশ্ত দিয়ে কাবাব বানিয়ে খায় সেই রাক্ষুসী। জান না?’
বুড়ি একটু হেসে বলল, ‘এসেছ ভালই করেছ। নয়তো আমাকে ছাড়িয়ে দিত কে? উহ্! গা-টা এখনো ব্যথা করছে! ডাকাতগুলো এত পাজি! একটুও দয়া মায়া নেই। একজন বুড়ো মানুষকে এভাবে কেউ বাঁধতে পারে? কী রকম অমানবিক দেখেছ?’
ডাকাতের কথা শুনে অনতু একটু ভড়কে গেল। বুড়ি সেটা বুঝতে পেরে বলল, ‘ভয় নেই। ওরা এখনি এখানে আসবে না। সেই ফুলপুর গাঁয়ে ওরা ডাকাতি করতে গেছে। ফিরতে ফিরতে ভোর হয়ে যাবে। ফুলপুর তো এখান থেকে প্রায় দু’ক্রোশ পথ।’
অনতু এবার একটু সাহস করে বলল, ‘আপনি কে? এখানে এলেন কী করে?’
বুড়ি উঠে দাঁড়াতে যাচ্ছিল। অনতুর কথা শুনে অবাক চোখে তাকাল বোধ হয় ওর দিকে। ‘ওমা! এখনো বুঝতে পারছ না আমি কে? আরে আমিই তো সেই জটালী বুড়ি। তোমরা যাকে ডাইনি, না রাক্ষুসী বল।’
জীবনকে অনুপক্সক্ষ বিশ্লেষণে অবলোকন করার দৃষ্টিভঙ্গি কারো কারো সংবেদনশীলতায় অন্বিষ্ট থাকে। সময়ের পরিসর গলিয়ে শৈশব-কৈশোর রাঙানো রক্তাবির মাখা কৃষ্ণচূড়ার বর্ণিলতায় মানব-মানবীর সহজাত ভালোবাসা আর ডিটেইলস এর নান্দনিক কারুকাজ নিয়ে প্রযত্ন পরিশীলনে প্রায় দুই যুগ ধরে নিবিড় একাগ্রতায় শিল্প-সাহিত্য নির্মাণে পরিশীলিত এক নাম মাসুদল হাসান শাওন। পতিত মানব জমিন, কেয়া কামিনীর সৌরভ, পারিবারিক জীবনের আন্ত:সম্পর্ক, রূপান্তরের পালাক্রম কিংবা নাগরিক যান্ত্রিক জীবনের শূন্যতা, আপাত দ্রোহ এবং স্পর্শের বৃত্তায়নে আবর্তন শাওনের। আঠারটি উপন্যাস, অসংখ্য নাটক নির্মাণের যে উৎসমুখ তা এক সবুজ শ্যামলিম পত্রপুষ্প সমাচ্ছন্ন পেলবতার আচ্ছাদন। গাজীপুর সমরাস্ত্র কারখানার আগ্নেয়াস্ত্রের ধুম্র ও শব্দ বলয়ে বেড়ে ওঠা শাওন এক প্রাগ্রসর সময়ের স্মারক। লেখনির সংখ্যাধিক্যে পরিচিতির ব্যাপ্তি হয়তো অনুল্লেখ্য তবে মিডিয়ার বোকা বাক্সে সরব নীরব উপস্থিতি, বাচিক ও সাত্ত্বিক অভিযোজনে মাসুদুল হাসান শাওন বহুমাত্রিকতায় কাল নির্দেশক প্রতিচ্ছবি নি:সন্দেহে।বাংলাদেশে অভ্যুদয়ের প্রাক্কালে ৭ ডিসেম্বর জন্ম শাওনের। গাজীপুর ক্যান্ট স্কুল হয়ে ঢাকা কলেজ সেখান থেকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়- নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে আত্মজ বোধে সৃষ্টি করে চলেছেন নির্মাণের বর্ণময় শব্দমালা- কখনো কালো ছাপার অক্ষরে, কখনো সেলুলয়েডের রঙিন আলোয়।

